পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল মানিক

পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল মানিক

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ জন্ম থেকেই দুই হাত নেই তবুও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি মানিক রহমানকে। পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ পেয়েছে কুড়িগ্রামের জেএসসি পরীক্ষার্থী মানিক।

মানিক ২০১৯ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ভালো ফলাফলে খুশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েও হান মানেনি মানিক। অষ্টম শ্রেণির ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তার রোল নম্বর ছিলো ৭। জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখলো মানিক। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র সেন জানান, মানিক রহমান পা দিয়ে লিখলেও লেখাগুলো ঝকঝকে, স্বাভাবিক হাতের লেখার মতোই। তার লেখা দেখে আমরা চমকে গেছি।

মানিকের বাবা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মানিক প্রতিবন্ধী। তার কষ্টার্জিত ফলাফল আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে মানিকের মা ও আমি তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও মানিকের ভালো রেজাল্টে করায় আমরা গর্ববোধ করি।

মানিকের মা সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম বেগম বলেন, জন্ম থেকেই মানিকের দুই হাত নেই। ডান পায়ের চেয়ে বাম পা ছোট। ঠোঁট ও তালু কাটা ছিলো। পরে অপারেশন করে ঠোঁট ও তালু স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী হলেও নিজেকে স্বাভাবিক মনে করে মানিক। দুই হাত না থাকলে পা দিয়েই প্রায় সব কিছু করতে পারে সে।

মানিক রহমান বলেন, ‘আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে পা দিয়ে লিখে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন সামনে আরও ভালো করতে পারি।’

হাত না থাকলেও মনোবল হারাইনি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের মাধ্যমে বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ করে যেন তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই কামনা করি।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন