করোনাকালে জেলা শিক্ষা অফিসারের সম্মাননা পেলেন শিক্ষক ফারুক

গোদাগাড়ী ( রাজশাহী) থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ

মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সম্মান করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন তাদের। বর্তমান সরকারও শিক্ষাবান্ধব সরকার।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ব যখন লকডাউন, দেশের সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যখন শিক্ষা ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তখন একজন রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে বাড়িতে বসে প্রশ্নপত্র তৈরি করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিনা খরচে শিক্ষার্থীদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন। এরপর অভিভাবকের পাহারায় বাড়িতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে তার ক্লাসের ছাত্রীরা। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো মূল্যায়ন করে ফলাফল দিয়েছেন তিনি।

করোনার মাঝেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন। তার এ মহতি উদ্ভাবনী কার্যক্রমের জন্য এবার রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ নাসির উদ্দিন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী।

এর আগে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাঃ মোকবুল হোসেন তার অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানিয়েছিলেন।

আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার তার অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক মোঃ ফারুক হোনের হাতে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অভিনন্দন পত্র ও শুভেচ্ছে উপহার তুলে দেন।

এতে লিখা রয়েছে, প্রিয় মহোদয়, আপনাকে অভিনন্দন। মহামারী করোনার এই সংকটকালীন সময়ে যখন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে, এই পরিস্থিতিতে বিশেষ পদ্ধতিতে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে নিজে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিয়ে অভিভাবকের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরবর্তীতে উত্ত উত্তরপত্র সংগ্রহপূর্বক যাচাই করে ফলাফল প্রদানের যে বিশেষ উদ্ভাবনী কার্যক্রম আপনি কোন আর্থিক সুবিধা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, আপনার পেশাগত দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার জন্য রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিস পরিবার আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছে। সেই সাথে আপনার ও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি।’ শিক্ষক ফারুকের মহতি উদ্ভাবনী কাজের উপর স্থানীয়, জাতীয় দৈনিক, অন লাইন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ‘অভিভাবকের পাহারায় মডেল টেস্ট, শিক্ষকের অনন্য উদ্যোগ’ শিরোনামে স্যাটেলাইট টেলিভিশন এনটিভিতে শ.ম সাজু’র একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রচারিত হয়। রিপোর্টটিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের মন্তব্য ছিলো। রিপোর্ট প্রচারের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড শিক্ষক ফারুক হোসেনকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেয় এবং তাকে অভিনন্দন পত্র তুলে দিয়ে ছিলেন।

উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, সংসদ টিভির মাধ্যমে সরকার অনলাইন পাঠদান প্রচার করছেন, কলেজগুলি অনলাইন ক্লাস করছেন যা শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ উপকৃত হচ্ছেন। শিক্ষক ফারুক সাহেব যে ব্যতিক্রমধর্মী কাজটি করেছেন তিনি প্রশাংসার দাবীদার। আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের নিকট তিনি একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এ গৌরব ও সম্মান শুধু ফরুক সাহেবের নয়, এটা গোটা শিক্ষা পরিবারের।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ নাসির উদ্দিন সন্মাননা স্মারক শিক্ষক ফারুকের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, সত্যিই ফারুক সাহেব মহতি উদ্ভাবনী কাজটি বিনা খরচে করেছেন, শিক্ষা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে গর্ববোধ করি। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানের উপকারে এসেছে। অন্যান্য শিক্ষকগণ যদি করোনাকালীন সময়ে এ মহতি উদ্দোগটি গ্রহন করেন তবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রতিষ্ঠান, দেশ, জতি উপকৃত হবেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সোনার মানুষ গড়ে উঠবেই। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে।