স্বপ্ন নাকি বাস্তব

তুনার সেদিন খুব মজা লাগছিল। অবশ্য মজা লাগারও কথা, এত্ত বড় একটা ছুটি!! কী মজা , সকালে উঠে তাকে আর স্কুলে যেতে হবে না। সে ইচ্ছামতো ঘুমাতে পারবে। সারাদিন বসে বসে টিভি দেখতে পারবে।

গোপাল ভাঁড়, নাটবল্টু, অগি, ডোরেমন, বাটুল দি গ্রেট,আর তুনার প্রিয় সিসিমপুর তো আছেই! ভাবলেই তার মজা একেবারে বেড়েই চলেছে!! আর হলোও তাই। কিন্তু এক সপ্তাহ হতে না হতেই তুনার সব আনন্দ একদম আকাশে উড়ে গেল। তুনার এখন স্কুলে যেতে মন চাইছে। আর বাসায় বসে থাকতে ভাল লাগছে না। কিন্তু কি করা যায়? বাহিরে ঘুরতেও তো বের হওয়া যাবে না। অনেক ভেবে ভেবে তুনা শেষে একটা আইডিয়া বের করলো। সুযোগ বুঝে সে তার বড় বোন তিশার সব কমিকস বই খুঁজে বের করে পড়তে বসল।

বড় উপন্যাস সে পড়ে না, কারণ সেগুলোর ভাষা বেজায় কঠিন! তার দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ার কাইদা আর কি!

তাই কমিকস বই তার জন্য উত্তম। তবে ১৫ দিনের মাথায় গিয়ে তুনা আবিষ্কার করল বাসায় আর একটাও কমিকস বই নেই! সে রীতিমত ২০ টা কমিকস বইয়ের সবগুলো পড়ে ফেলেছে। তাহলে এখন সে কি করবে? ভাবতে ভাবতেই হকার আঙ্কেল তাদের বাসায় পেপার দিয়ে গেল। আজ শনিবার। তাই আজ তুনাই সবার আগে পেপারটা পড়বে। কারণটাও স্পষ্ট, গোল্লাছুট! গোল্লাছুট তুনার খুব প্রিয়! সে অবশ্য অনেকবার অনেক কিছু ভেবেও কোনো লেখা বা আঁকা শেষ পর্যন্ত দিতে পারেনি। যা কিছুই সে ভাবে, পরদিন দেখে তা প্রকাশিত হয়ে বসে আছে আগে ভাগে। তবে এবার সে সিন্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে “গোল্লাছুট” ঘরে বসে আমি সংখ্যায় কিছু লিখেই ছাড়বে! যেই ভাবা সেই কাজ। রাতদিন এক করেও তুনা কিছুই ভেবে পায় না। তুনার একটা ভাল দিক আছে। তুনা রাতে ঘুমাতে গেলে ভালো ভালো সব স্বপ্ন দেখতে পায়! আর সকালে উঠলেই সেই স্বপ্ন নিয়ে একটা ভালো গল্প লিখতে পারে! কিন্তু স্বপ্ন তো তুনার ইচ্ছা মত আসে না, আসে স্বপ্নের মর্জিমতো। এসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে কখন যে তুনা ঘুমিয়ে পড়ল সে নিজেই টের পেল না।

“এই তুনা! তুনা ওঠ, ঘুম থেকে। আমি এসেছি তোমাদের বাঁচাতে।”
তুনা একেবারে লাফিয়ে উঠল! “কে তুমি?”
“আমি রোমানা । তুমি আমাকে চিনবে না। তোমরা যে করোনাকে ভয় পাচ্ছো, আমি তার বড় বোন”
“কিন্তু তুমি কোথায়? তোমায় তো আমি দেখতে পাচ্ছি না” তুনা ভয়ে ভয়ে বলল।
“আরে আমি তো ভাইরাস। আমাদের খালি চোখে দেখা যায় না। তাই বলে কি আমরা নেই নাকি? আমরা তোমাদের চারপাশেই থাকি।”
“রোমানা তুমি চলে যাও এখান থেকে। তোমাকে আমার খুব ভয় লাগছে! তুমি যাও, প্লিজ”
“শোন, শোন আমাকে ভয় পেও না। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। আসলে আমার ছোট ভাই করোনা আমার উপর রাগ করে পৃথিবীতে চলে এসেছে। আর এখানে এসে তোমাদের উপর রাগ দেখাচ্ছে, বুঝলে?”
“কি বলছো তুমি? আর তোমরা কোথায় বা থাকো?”
“আমি সত্যি বলছি! আমরা তোমাদের পাশের গ্যালাক্সি এন্ড্রোমিরাতে থাকি। করোনার রাগ কমে গেলেই ও আমার সাথে চলে যাবে পৃথিবী থেকে। এজন্য তোমাদের কাছে আমার সাহায্য দরকার । করবে তোমরা সাহায্য?”
“আমরা! কিন্তু কিভাবে?”

“আসলে তোমরা যদি ঘর থেকে বের না হও, হাঁচি কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করো এবং ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুতে পারো তাহলে করোনার রাগ একদম কমে যাবে। আর ও ঠান্ডা হলেই আমরা চলে যাব আমাদের গ্যলাক্সিতে । আর তুমিও স্কুলে যেতে পারবে আবার! করবে তোমরা সাহায্য?”
“বল কি! সত্যি?”
“হ্যাঁ,হ্যাঁ,হ্যাঁ! তিন সত্যি, তুনা!”

তাহলে এই কথা দিলাম করোনা ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ ঘর থেকে বের হবো না। আর তোমার বলা সব নিয়ম মেনে চলবো।
“অনেক ধন্যবাদ, তুনা!! আজ আমি আসি। তোমরা এভাবে সহযোগিতা করলেই আমি খুব দ্রুত তাহলে করোনাকে নিয়ে চলে যেতে পারবো ।“

এভাবে দেখতে দেখতে ১মাস কেটে গেল। রোমানাকে সাহায্য করতে কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। সবাই করোনাকে ঠান্ডা করতে সব নিয়ম কানুন মেনে চলল। অবশেষে রোমানার সাথে করোনা ফিরে গেল তাদের গ্রহে। পৃথিবী আবার তার চিরচেনা রূপ ফিরে পেল!
“তুনা, এই তুনা! কিরে স্কুলে যাবি না? সেই কখন কাল রাতে পেপার নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লি টেবিলে! এবার ওঠ,” মা তাকে বলল।
“কেন? করোনার জন্য তো স্কুল বন্ধ, মা!” তুনা বলল
“না,আজ সকালেই খবরে বলেছে করোনা ভাইরাস এখন আর নেই পৃথিবীতে! জানিস, বিশ্ব তো এখন এই ব্যাপারটা নিয়ে একেবারে অবাক! নে তাড়াতাড়ি স্কুলে যাবি, চল।“

কি মজা! আবার স্কুলে যাবো আমি। তবে রোমানা কি আমার স্বপ্ন ছিল নাকি বাস্তব? হবে হয়তো কিছু। কিন্তু তাহলে তো আমি গোল্লাছুটে করোনা নিয়ে কিছুই লেখতে পারব না। করোনা সংখ্যা তো বাদ! এবারও সে কিছু লিখতে পারল না। ধুর, আর ভালো লাগে না!! তবে যাই হোক এবার না হলেও পরের সংখ্যায় তুনা গল্প লিখবেই। হুররে…!!!

অনন্যা সাহা
শ্রেণি: নবম
আট্টাকা কে. আলী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়
ফকিরহাট, বাগেরহাট।