গর্ভবতী স্ত্রীকে কাঠে বসিয়ে ৭০০ কি.মি. পাড়ি, ভিডিও ভাইরাল

করোনা ভাইরাসের কারণে দফায় দফায় বাড়ছে লকডাউনের মেয়াদ। শহরে কাজ করতে এসে লকডাউনের মধ্যে পরে যায় রামু। দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেও কোন যান চলাচল শুরু করেনি। তাই অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কাঠের ডেলাগাড়ি বানিয়ে ৭০০ কি:মি: পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা করে করেন রামু। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে চাকার ওপর কাঠের পাটাতনে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার (১২ মে) নিজের গ্রামে ফিরেছেন রামু। সেই ঘটনার ভিডিও এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, হায়দরাবাদে কাজ করতে গিয়ে লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা রামু। সেখান থেকে তার সঙ্গে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ধন্তত্বা ও বাচ্চা মেয়ে অনুরাগিনী। তাদের নিয়ে মধ্য নিয়ে হেঁটে মধ্যপ্রদেশের উদ্দেশে রওনা দেন রামু। বাড়ি ফেরার সময় পথে কোথাও বাস বা লরি দেখতে পাননি তিনি।

রামু স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাকা লাগানো ওই কাঠের পাটাতনে মেয়ে অনুরাগিনীকে নিয়ে বসে আছেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আর রামু দড়ি দিয়ে তাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবেই পুরো রাস্তা পাড়ি দিয়ে তিনি বাড়ি পৌঁছান।

গ্রামে ফিরে আসার যাত্রা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে রামু বলেন, ‘প্রথমে মেয়েকে কোলে নিয়ে হাঁটছিলাম আমি। কিন্তু পুরো রাস্তা হেঁটে আসা আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। আসার পথে জঙ্গল থেকে কাঠ জোগাড় করে ওই পাটাতন বানাই। তাতেই স্ত্রীকে চড়িয়ে বাড়ি ফিরছি।’

তেলঙ্গানা থেকে মহারাষ্ট্র হয়ে নিজের জেলায় ফেরেন রামু। পথে পুলিশের একটি দল তাকে দেখতে পায়। তারাই খাবার দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে রামুর মেয়ের জন্য চটিও কিনে দেন। এ ব্যাপারে নীতেশ ভার্গভ বলেছেন, ‘প্রথমে আমরা ওই পরিবারের স্বাস্থ পরীক্ষা করি। তারপর বালাঘাটে গ্রামে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করি।’