শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোললে মানতে হবে ১৭ নির্দেশনা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোললে মানতে হবে ১৭ নির্দেশনা

করোনার প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ। এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে রয়েছে নির্দেশনা। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সময় এবং খোলার পরে কী করতে হবে, তা আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে চালু করার সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও পেশার জন্য কারিগরি নির্দেশনা’ শীর্ষক নির্দেশিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়। গাইডলাইনে রয়েছে ১৭ নির্দেশনা। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে মহামারী প্রতিরোধক মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার সংগ্রহ করে জরুরি কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি ইউনিটের জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক ও শিক্ষাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করতে হবে; শিক্ষক, শিক্ষাদান কর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে।

সকাল ও দুপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ‘প্রতিদিনের প্রতিবেদন’ এবং ‘শূন্য প্রতিবেদন’ পদ্ধতি চালু করতে হবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত শিক্ষাদানকর্মীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। যাদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাবে, তাদের প্রবেশ নিষেধ; শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ এবং পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকতে হবে। দিনে ২-৩ বার প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মতো উন্মুক্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের স্বাভাবিক মাত্রা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশুদ্ধ বায়ু চলাচল বৃদ্ধি এবং ফিরতি বায়ু চলাচল বন্ধ হবে; শ্রেণিকক্ষ, সর্বসাধারণ কর্তৃক ব্যবহৃত হয় এমন জায়গাসহ অন্যান্য জায়গার মেঝে ও ঘরের দরজার হাতল, সিঁড়ির হাতল এবং যেসব বস্তু বারবার ব্যবহৃত হয়, সেসব বস্তুর তলপৃষ্ঠ ঘন ঘন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে; খাবার থালাবাসন (পানির পাত্র) পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত এবং প্রতিবার পরিবেশনের পরে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য খাবার থালাবাসন (পানির পাত্র) জীবাণুমুক্ত করতে হবে; দূরে দূরে বসে খাবার গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব থালাবাসন বা ওয়ানটাইম থালাবাসন ব্যবহার করতে হবে; প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বরের আবর্জনা পরিষ্কার এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র জীবাণুমুক্ত করতে হবে; অফিস কার্যালয়ে কাগজের সীমিত ব্যবহারকে উৎসাহিত করুন।

শিক্ষাদানকর্মীদের পারস্পরিক শারীরিক যোগাযোগ কমে এবং দূরবর্তী বা অনলাইন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; স্বাভাবিক অবস্থা না আসা পর্যন্ত কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ জমায়েত বা ক্রিয়াকলাপের আয়োজন করা যাবে না। যে কোনো বদ্ধ বা ঘন জনবহুল স্থান বা অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক মিটারের কম বা সমান দূরত্ব বজায় রাখতে হবে; শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের বহির্গমন কমিয়ে দিতে হবে; শিক্ষাদান কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক ব্যবহার করা। হাত ধোয়াসহ অন্যসব স্বাস্থ্যবিধি শক্তিশালী করা। দ্রুত হাত শুকানো জীবাণুনাশক বা জীবাণুনাশক টিস্যু ব্যবহার করা। হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ এবং নাক ঢাকতে টিস্যু বা কনুই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে; মহামারী প্রতিরোধকে জোরদার করা।

শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা করা; শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনা সন্দেহভাজন কোনও কেস থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানান এবং যারা এই কেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন করতে হবে; কোয়ারেন্টিনে অবস্থানরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী বা শিক্ষার্থীদের পিতামাতার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার জন্য একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে; কোনও নিশ্চিত কোভিড-১৯ কেস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ু চলাচল ব্যবস্থা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে । মূল্যায়ন না হওয়া হওয়া পর্যন্ত এটির পুনরায় ব্যবহার শুরু করা থেকে বিরত থাকতে হবে; একত্রে বসে খাওয়ার মতো ডাইনিং পরিসেবা বন্ধ রাখতে হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত এখনো সরকার নেয়নি।’ তিনি বলেন ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনা থেকে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনাগুলো চিহ্নিত করে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেব। করোনা উত্তর সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ করনা শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনার সংক্রমণ রোধ করতে সরকার ২৫ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। কয়েক দফায় ছুটি বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে কয়েক দফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ও সমন্বয় করা হয়। সবশেষে সিদ্ধান্ত ৩০ মে পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে আগামী ৬ জুন পর্যন্ত।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন