অভিভাবকদের ‘চাপ’ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অভিভাবকদের ‘চাপ’ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি আদায়ের জন্য অভিভাবকদের কোনো রকম `চাপ` দেওয়া যাবে না। চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করার কোনো অভিযোগ পেলে সংশ্নিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা বোর্ড।

সম্পতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এমন অভিযোগ এসেছে। বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি আদায়ের জন্য অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদেবার্তা (এসএমএস) দিয়ে বিকাশ ও রকেট নম্বর পাঠিয়ে তা পরিশোধের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও ফোন করে জোরপূর্বক টিউশন ফি আদায়ের চেষ্টাও চলছে।

তবে অভিভাবকদের চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় না করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি গত ২৩ এপ্রিল এক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান সমকালের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, তারা অভিভাবকদের কোনো `চাপ` দেননি। টিউশন ফি পরিশোধের জন্য `নোটিশ` করেছেন মাত্র। এটি তাদের নিয়মিত কাজেরই অংশ। তারা আরও বলেন, যেহেতু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার আয়ের প্রধান খাতই টিউশন ফি, তাই এটি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তাদের চাইতেই হয়। এটি ছাড়া প্রতিষ্ঠান সচল রাখা সম্ভব নয়। সম্প্রতি রাজধানীর সাউথপয়েন্ট স্কুলের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের কাছে বিকাশ নম্বর পাঠিয়ে টিউশন ফি প্রদানের জন্য পুনঃ পুনঃ তাগাদা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই অভিযোগ ওঠে লালমাটিয়ার ম্যানগ্রোভ ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বিরুদ্ধেও।

লালমাটিয়ার ম্যানগ্রোভ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষ তারেক খান জানান, এই মুহূর্তে তাদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু গত দুই মাস শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতে পারেননি তারা। এ কারণে প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি চাওয়া হচ্ছে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, `সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্তরা এখন এই দুর্যোগের কারণে আর্থিক কষ্টে পড়েছেন। টিউশন ফি এখন তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি অথবা প্রণোদনা দিতে হবে। সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে, সেই প্রণোদনা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিলে অভিভাবকরা উপকৃত হবে।` ২৩ এপ্রিল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, `দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন এবং অন্যান্য খাতে গৃহীত ফি এ মুহূর্তে পরিশোধে চাপ প্রয়োগ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো। পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে বা স্বাভাবিক অবস্থায় এলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন ও অন্যান্য ফি আদায়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।` এ নির্দেশনা পাঠদান ও সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলেও জানানো হয় ওই নির্দেশনায়।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, `আমরা এ বিষয়ে কোনো রকম চাপ সৃষ্টি না করতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। এর পরও যদি কোনো অভিযোগ আসে আমাদের কাছে, আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।`

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন