টিভিতে ক্লাসের সময় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ছে

চলমান করোনা সঙ্কটে আরও তিন-চার মাস সংসদ টিভিতে ক্লাস সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গত ২৯ মার্চ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিক স্তরের সব বিষয়ে ক্লাস রেকর্ড করে সংসদ টিভিতে দেখানো শুরু করেছিল। এখন আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ‍সূত্রে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। সরকার বলেছে, চলমান এই ভাইরাসের প্রকোপ অব্যাহত থাকলে এই ছুটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।  দেশে এখন প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৩৪ লাখের মতো শিক্ষার্থী আছে।

জানা গেছে, করোনাকালে লকডাউনের সময় পড়াশোনা চালু রাখার একমাত্র মাধ্যম টিভির ক্লাস। তবে শিক্ষার্থীরা যেন ফোনে শিক্ষকের পরামর্শ নিতে পারে, সেটার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এখন প্রাথমিকের ক্লাস হয় সকাল ৯টা থেকে ১০.৪০টা পর্যন্ত। এরপর থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে মাধ্যমিকের ক্লাস। আগামীতে ক্লাসেরও সময় বাড়বে বলে জানা গেছে।

মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি ক্লাস রেকর্ড করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলোর ২০০-এর বেশি প্রচারিত হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লাস হয়েছে ১০০-এর মতো।

টিভিতে শিক্ষকেরা ক্লাস শেষে বাড়ির কাজ দেন। শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ের খাতায় তারিখ দিয়ে সেগুলো করতে বলা হয়েছে। স্কুল খুললে এই খাতাগুলো তারা শ্রেণিশিক্ষকদের জমা দেবে। শিক্ষকেরা নম্বর দেবেন, সেটা ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হবে।

এসব ক্লাসে শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায় না। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, অভিযোগগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্কুল পর্যায়ে সারা দেশে অনলাইনে ক্লাস করানোর সুযোগ এখনো নেই—এই ক্লাসগুলোই সহায়।

এদিকে, রাজধানীর কিছু নামী স্কুল নিজেদের মতো করে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বললেন, তাঁরা ফেসবুকে গ্রুপ খুলে চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাচ্ছেন। প্রশ্নোত্তরের সুযোগ থাকছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসের পড়ার কাগজ ও বাড়ির কাজ দেওয়া হয়েছে, টিভির ক্লাস দেখতে বলা হয়েছে।

তবে পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রণালয় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সামনে মাধ্যমিকের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও আটকে যেতে পারে।

মাউশি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ঢাকা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্কুল খুললে সিলেবাস কাটছাঁট করে কিছু পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।