শতবর্ষী আলোর বাতিঘর কুর্শা কে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শতবর্ষী আলোর বাতিঘর কুর্শা কে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কুর্শা কে এন (কেদার নাথ) বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার ২য় প্রাচীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি হলঃ আমলা সদরপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এটি কুর্শা কে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের ১০ বছর পর ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত।

১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে অত্র এলাকার হিন্দু জমিদার কেদার নাথ জোয়ার্দার প্রায় ১০ একর জমির উপর বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। এর মধ্যে বর্তমানে এই  বিদ্যালয়ের দখলে আছে মাত্র ৩ একর, বাকী ৭ একর জমির মধ্যে কাকিলাদহে ৬ একর, মল্লিকপুরে ২ একর, গোপিনাথপুরে ১ একর ও আবুরী মাগুরায় ১ বিঘা জমি অত্র এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে গেছে।  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারনে ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর বিদ্যালয়টি বন্ধ ছিল। নানা প্রতিকুলতা সত্বেও ১২৭ বছর ধরে অত্র উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন ওই বিদ্যালয়টি আলোক বর্তিকা হিসাবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছে। বিদ্যালয়টির একই আঙ্গিনায় কেদার নাথ জোয়াদ্দারের জমিতেই রয়েছে কুর্শা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রাচীন এই বিদ্যাপিঠের সঠিক ইতিহাস পুরোপুরি জানা সম্ভব না হলেও, বিদ্যালয়ের শুরুর সময়কার একটি রেজুলেশন খাতা ঘেটে যতদুর জানা যায়, ১ জানুয়ারী ১৮৮৯ সালে ১ম-৭ম শ্রেণী পর্যন্ত এম ই (ইংলিশ মিডিয়াম) স্কুল হিসাবে চালু করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন, কেদার নাথ জোয়ার্দারের ছেলে হরিনাথ জোয়ার্দার। ১৯৩৯ সালে ২য় প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন কুমার দত্ত। কুমার পান্ডে প্রধান শিক্ষক থাকাবস্থায় ১৯৫৬ সালে দেশ বিভাজনের সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। ২৭ বছর পর ১৯৮৩ সালে সাবদার হোসেন প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে আবার স্কুলটি চালু করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হন জহির উদ্দিন। তিনি অবসরে গেলে ২০১১ সাল থেকে নুরুন্নবী প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৯ জন শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়টি থেকে এ বছর ৬৪ জন এস এস সি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়াও ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ১৪০ জন, সপ্তম শ্রেণীতে ১৪০, অষ্টম শ্রেণীতে ৮৭, নবম শ্রেণীতে ৬২ ও দশম শ্রেণীতে ৬০ জন ছাত্র/ছাত্রী অধ্যায়ন করছে।

এই বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন কৃতি শিক্ষাথীদের মধ্যে মাসুদ রানা ব্যাংক ম্যানেজার, হাফিজুল ইসলাম এমবিবিএস চিকিৎসক, রাজিবুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ার,মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক,রাশেদুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম ও সাহাবুব ইসলাম সহকারী পুলিশ পরিদর্শক,মোমিনুল ইসলাম বিসিএস শিক্ষা ও শরিফুল ইসলাম প্রীমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানীর কর্মকর্তা কর্মকর্তা হিসাবে দেশ/বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন।

বিদ্যালয়ের নামে থাকা উল্লেখিত বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে অসংখ্য দেনদরবার সত্বেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কথিত আছে স্কুলের নামে বেহাত হয়ে থাকা ওই জমি উদ্ধারে ডাক সাইটে প্রয়াত নেতা মারফত আলীও ভুমিকা রেখে ব্যার্থ হয়েছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহন জোয়ার্দার ও প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুন্নবী জানান, ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বিদ্যালয়টি উপজেলার ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যালয়ের নানা সমস্যার মধ্যে বেহাত হয়ে থাকা জমি উদ্ধার করা এখন তাদের কাছে অন্যতম সমস্যা। তাই ইতিহাস ঐতিহ্যের এই বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমান বেহাত হয়ে থাকা জমি উদ্ধার করে বিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট উধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অত্র এলাকার সচেতন জনসাধারন।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন