সুনামগঞ্জে প্রাথমিকে প্যানেল প্রত্যাশিরা কৃষকের ধান কাটলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ এর প্যানেল প্রত্যাশি কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে আজ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের দরিদ্র কৃষক বিজয় বৈদ্যের জমিতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ২৫ জনের একটি দল বিনা পারিশ্রমিকে ৫বিঘা জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছেন।

ধান কাটা কার্যক্রমে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ এর প্যানেল প্রত্যাশি কমিটি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জাকির আহমেদের নেতৃত্বে কমিটির সহ-সভাপতি নিধির সূত্রধর, সাধারন সম্পাদক বৃষ্টি রানীর পক্ষে ¯্রীজন রায়, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুজন রায়, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর আহমেদ, সহ দপ্তর সম্পাদক এস.এম সাঈদ, প্রচার সম্পাদক কয়েছ আহমেদ, সহ প্রচার সম্পাদক নিপ্পন জামান, কার্যকরী কমিটির সদস্য, অশোক রঞ্জন দাশ, প্রদীপ বৈদ্য, রিপন আহমেদ, মো. জাকির হোসেন, এস এম রিপন, মো. কিবরিয়া, সমীর সূত্রধর, পলাশ আহমেদ, রতন দাশ, অংকন দাশ, সুমন মিয়া, মোশাহিদ মিয়া, উমেদ আহমেদ, রাশেল কবির সহ জেলার অন্যান্য প্যানেল প্রত্যাশিরা অংশ গ্রহন করেন।

কৃষক বিজয় বৈদ্য বলেন, এবার করোনা সংকট ও সুনামগঞ্জ জেলা হাওর এলাকা হওয়াতে ধান কাটা নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত ছিলাম। হঠাৎ করে গতকাল আমার সাথে সুনামগঞ্জ জেলা প্যানেল প্রত্যাশি কমিটির সভাপতি জাকির আহমেদ ভাই ও আমাদের এলাকার শিক্ষিত ভাইয়েরা বিনা পারিশ্রমিকে আমার ধান কাটে দেওয়ার কথা বলেন। তাই তারা আজকে সকালে এসে আমার ধান কেটে দিলেন এতে আমি খুবই উপকৃত ও আনন্দিত। তাই আমি একজন দরিদ্র কৃষক হয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই শিক্ষিত ভাইদের জন্য পুরুষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ এর প্যানেল প্রত্যাশি কমিটি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জাকির আহমেদ বলেন, “২০১৮ সালে আমরা রেকর্ড সংখ্যক ২৪ লক্ষ ৫ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সেখান থেকে ৫৫,২৯৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হই যা মোট পরীক্ষার্থীর ২.৩ শতাংশ। সেখানে পাশের হারও ছিলো রেকর্ড সংখ্যক তাই আমাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলাার কোনো সুুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমাদের ৩৭ হাজার প্যানেল প্রত্যাশির একটাই দাবি ২০১৮ সালের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী সবাইকে যেন মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়।”

তিনি আরো বলেন, ইতোপূর্বে, কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ধান কাটা কর্মসূচী পালন করা হয়েছে এবং কৃষকদের ধান মাঠে যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশি কমিটির ধান কাটা কর্মসূচী চলমান থাকবে।

 

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ -২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি জাকির আহমেদ আরও বলেন,” পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে,” শিক্ষার মূলভিত্তি ” মনে করে ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছিলেন যা ছিলো বেকার মুক্ত দেশ গড়ার যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যার ফলে, প্রায় দেড় লক্ষাধিক বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছিলো। সেই আলোকে এই মুজিব বর্ষে আমাদের ৩৭ হাজার বেকারকে একই সাথে প্যানেলের মাধ্যমে জাতির জনকের ১৯৭৩ সালের জাতীয়করনকৃত ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে মুজিব বর্ষে মুজিব কর্মের পুনরাবৃত্তি সহ জাতির জনকের আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রাখার বিনীত প্রার্থনা জানান। “