বিল দাখিলের ৩ দিনের মধ্যে পেনশন

সরকারি চাকরিজীবীরা সারাজীবন চাকরি করে জীবনসায়াহ্নে পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়েন। তবে পেনশনে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতে ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের অর্থ দেয়া হবে উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০ জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ সুবিধা পেতে নতুন করে বেশকিছু কাগজপত্র জমা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর এসব ফরম ও কাগজপত্র অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি নতুন পরিপত্র আজ (মঙ্গলবার) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’ এর ৪.০৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর নিজের এবং তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পারিবারিক পেনশন প্রাপ্তির আবেদনের নিমিত্তে পেনশন আবেদন ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি সংশােধিত আকারে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলে হচ্ছে- প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ইএলপিসি) (সংযােজনী-১), প্রাপ্তব্য পেনশনের বৈধ উত্তরাধিকারী ঘােষণাপত্র (সংযােজনী- ২), উত্তরাধিকার সনদপত্র ও নন-ম্যারিজ সাটিফিকেট (সংযােজনী- ৩), পেনশন ফরম ২.১ (সংযােজনী- ৪), পারিবারিক পেনশন ফরম ২.২ (সংযােজনী- ৫), নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙুলের ছাপ (সংযােজনী- ৬), আনুতােষিক ও অবসরভাতা উত্তোলন করার জন্য ক্ষমতা অর্পণ ও অভিভাবক মনােনয়নের প্রত্যয়নপত্র (সংযােজনী- ৭) এবং না-দাবি প্রত্যয়নপত্র (সংযােজনী-৮)।

এ আট ধরনের ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদির মুদ্রণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই বর্তমানে এসব ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি অর্থ বিভাগের (ওয়েবসাইট) থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে হবে। এ অবস্থায় “সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০”- এ সংযােজিত উল্লিখিত ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি পেনশন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরােধ করা হলাে।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০ জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই আদেশে বলা হয়, ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা চলে যাবে।

এছাড়া মাসিক সুবিধার টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ শুধু পেনশনের বিষয়টি দেখার জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।