নেশা যার রক্তদান

নেশা যার রক্তদান

১৯৯৩ সালের ১৬ডিসেম্বর কুমিল্লায় বিজয় মেলাতে মো. মুকবুল হোসেন প্রথম রক্ত দেবার চেষ্টা করে কিন্তু রক্ত দিতে পারিনি কারণ তার বয়স হয়নি বলে ডাক্তার বিদায় করে দিলেন। দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে সেদিন বাড়ি এসেছিলেন। মনটা খুব খারাপ ছিল। তখন তার আম্মা আমাকে সান্তনা দিয়ে বলেন আগামী বছর দিতে পারবি এক বছর দেখতে দেখতে কেটে যাবে। তার পর থেকে অপেক্ষার পালা কখন সেই দিন টি আসবে। অবশেষে ১৯৯৪ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গ বন্ধু শেখমুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকিতে কুমিল্লা রূপালি চত্তরে রক্তদান করার ফরম পুরণ করলেন। তখনও ডাক্তার তাকে বললেন, “আপনি দিতে পারবেন না”। কমপক্ষে ১৭ বছর লাগবে। কিন্তু মুকবুল নাছোড় বান্ধা। এক বড়ভাইকে রক্তদান করার আকুতি মিনতি বুঝালেন, সেই ভাই অবশেষে ডাক্তার কে রাজি করালেন এবং প্রথম রক্তদান করলেন।

তার পর থেকে দীর্ঘদিন তিনি ১৫ আগষ্ট, ১৬ ডিসেম্বর এবং ১৪ এপ্রিল নিয়মিত রক্তদান করে আসছে। এরপর থেকে তার মধ্যে এক ধরনের নেশা চলে এসেছে রক্তদানের সেঞ্চুরি করবে। মাঝখানে গত কয়েক বছর বছরে ৪ বার করে রক্তদান করে আসছে। এরি মাঝে তার ৭০ তম রক্তান করেছে এই মহামারী করোনার সময়। এই ৭০ বার রক্ত আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন যায়গায় দিয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশী রক্তদান করেছি কুমিল্লা মেডিসিন ক্লাবে। মো. মুকবুল হোসেন জানান, “আমার এখন লক্ষ্য নিজে শততম ব্যাগ রক্তদান করা এবং অনেক রক্ত যোদ্ধা তৈরী করা। ইতি মধ্যে আমার অনেক ছাত্র/ছাত্রী নিয়মিত রক্তান করে আসছে”।

মো. মুকবুল হোসেন,পিতা- মোঃ আবুল কাশেম, মাতা- জাহানারা বেগম। জন্ম ১৯৭৭ সালের ৩০ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এস.এস.সি পাশ করে ১৯৯৩ সালে, এইচ.এস.সি ১৯৯৫ এবং বি.কম ১৯৯৭ সালে। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছে।

মো. মুকবুল হোসেন বলেন, “আমি আমার কিছু কাছের মানুষকে দেখেছি রক্তের অভাবে মৃত্যু বরণ করতে। তখন থেকে ভেবেছিলাম আমার যখন রক্ত দেয়ার সময় হবে তখন আমি নিয়মিত রক্ত দিব”।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন