রোজা সুস্থ্য থাকার আবেদন

রোজা সুস্থ্য থাকার আবেদন

আমার প্রজন্ম এইরূপ রোজার দিন আর কোন দিন দেখেনি। রোজার ইফতার রোজার তারাবি ও রোজার সেহরির যে একটা আমাজে ছিল তা আজ নেই, সবাই স্তব্ধ। পৃথিবী সকল মানুষই মহামারিতে কবলিত ।

গতকালের (২৪/০৪/২০২০) রিপোর্টানুসারে করোনা ভাইরাসে আক্রমনে আক্রান্ত প্রায় ২৮,৩০,২৪৯জন। শুধু আমেরিকাতেই আক্রান্ত ৯,২৫,০৩৮জন। আমাদের দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে ইন্ডিয়ায় আক্রান্ত ২৪,৪৪৭জন, পাকিস্তান-১১,৯৪০জন, বাংলাদেশ ৪,৬৮৯জন, মায়ানমার-১৪৫জন, নেপাল-৪৯জন,ভূটান-৭জন, মালদ্বীপ-১২৯জন।
মালয়শিয়ায় ইফতারির সময় ইফতারির বাজার বসত; খুব ঝাঁক জমাক হতো ইফতারির বাজার। পত্রিকায় জাননাল মালয়শিয়ার ইফতার বাজার বন্ধ থাকবে। মুসলিমদের প্রাণের দেশ সৌদি আরবে নাই ওমরা হজের লোকজন। সৌদি আরবে করোয়া ভাইরাসে আক্রান্ত-১৫,১০২জন।

তারাবি নামাজ জামায়েতে পড়তে পারছে না অধিক লোকে। বাংলাদেশে তারাবি জামায়েতে ১২জনের বেশি হতে পারবে না। ইসলামি ফাউন্ডেশনের এই পরিপত্র অমান্য করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। ইফতারির ঝাঁক-জমাক নেই। নেই কোন ইফতার পার্টি। আগে দেখতাম রাজনৈতিক কার্যক্রম এই সময়ে সরাগম করতো। বিশাল ইফতার পার্টি করে বিশাল বক্তব্য দিতো। চলতো ইফতার রাজনীতি। শহরে সেহরী পার্টিও হত। সারা পৃথিবীই লক ডাউনে আছে। কাজেই রোজার বাহুল্য ইবাদতের কল্পনাও করা যায় না।

রোজার ইবাদত পৃথিবীতে নতুন নয়। প্রায় সব ধর্মেই আছে। ভিন্ন নামে ভিন্ন পদ্ধতিতে রোজা পালন করে ধর্মগুলো যেমনঃ ফাস্টিং, উপবাস প্রভৃতি। অধার্মিকগণও অটোফেজের জন্য উপবাস থাকে। বিপ্লবীগণ দাবী আদায়ের জন্য অনশন (উপবাস) করে। আল কোরানে উল্লেখ আছে, “পূর্বসূরিদের মতো তোমাদের ওপরও রোজা ফরজ করা হয়েছে যাতে তোমরা স্রষ্টা-সচেতন হতে পার।” (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)। রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দিবে বলে ওয়াদা করেছেন। কাজেই আমরা যদি সঠিকভাবে রোজা পালন করে আল্লাহর কাছে ঠিকমত চাইতে পারি তাহলে আল্লাহ আমাদের বিমুখ করবে না।

রোজার মাসে সমগ্র পৃথিবীর একটা প্রেস্ক্রিপশন (সকল বিধান) নাজিল হয়েছে যা কোরান নামে পরিচিত। এই কোরান পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য শেফা দান করতে পারে।

রোজা অতীতের গুনা মাফ করে নতুন জীবন দান করে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে আল্লাহর পুরষ্কারের আশায় রমজান মাসের রোজা পালন করেন আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রোজা প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে বিপদগামীতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কারণ ‘সাওম বা রোজা যৌনক্ষমতা দমন করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৬৫) রোজা আমাদেরকে মানবিকতা শিখায়। প্রায় একমাস উপবাস থাকার ফলে আমারা গরীর দুঃখীর অবস্থা অনুভব করতে পারি। এতে মানব প্রেম জাগ্রত হয়। সকল মানুষ ও প্রাণির জন্য নিজের উদারতার প্রয়োগ করতে প্রচেষ্টা চালায়।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রোজা কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিনের উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের জন্য উপকারি। এই প্রোটিনগুলো মস্তিষ্কের স্টেম সেলগুলো সক্রিয় করতে সহায়তা করবে যাতে তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

এই কারণেই রোজায় মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে যায়। আমাদের মস্তিষ্ক হয় উন্নত। ফলে ভুলে যাওয়া রোগ থেকে বাঁচা যায়।

মানব শরীরকে নিরোগ প্রতিরোধী করে তোলে। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে রোজাতে হার্ট ভালো থাকা, মস্তিষ্কের কার্যক্রম বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কিডনি ভালো থাকা, লিভার ভালো থাকা, ধূমপান ত্যাগের সুযোগ, পরিপাকপ্রক্রিয়া কার্যকর হওয়া, অন্যান্য শারীরিক জটিলতা এড়ানো যায়। রোজার সময় বিপাকের হারও হ্রাস পায়।

অ্যাড্রিনালিন এবং ননঅ্যাড্রিনালিন হরমোনগুলির ক্ষরণও হ্রাস পায়; এটি বিপাকের হারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোজা আমাদের দেহের বিষাক্ত পদার্থগুলি অপসারণের মনোনিবেশ করতে সক্ষম হয় যা অটফেজ নামে পরিচিত।

লেখক:

মোহাম্মদ শাহজামান
শিক্ষক

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন