করোনায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আনোয়ার হোসেনের সুস্থ হওয়ার গল্প

করোনায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আনোয়ার হোসেনের সুস্থ হওয়ার গল্প

মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ২৯ শে মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হলে হোমিওপ্যাথি  ডাক্তার মোঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাস এর কাছে চিকিৎসা নেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হলে তিনি সুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন। শিক্ষাবার্তা পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

আমি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বয়স ২৬ । থাকি মিরপুর ২ রুপনগর আবাসিকে। গত ২৯/৩/২০২০ তারিখ রাতে হঠাৎ বুক ভার হয়ে যায় এবং আমি শ্বাসকষ্ট অনুভব করি। যদিও ২৯ তারিখের আগে আমার গা গরম থাকতো কিন্তু আমি সে্টা কিছু মনে করিনি। তো যখন ২৯ তারিখ রাতে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো তখন আমি খুব ভয় পেয়ে যায়,কারণ চারিদিকে করোনার আতঙ্ক তারউপর বাসায় একা ছিলাম। যাইহোক সেই রাতেই আমাদের বুয়াখালার সাথে আমি মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যায়। সেখানে গিয়ে জরুরি বিভাগে এক ডাক্তারকে দেখাই।

তিনি যাবতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন তারপর আমার বুকের ECG করেন। সবকিছু দেখে তিনি বলেন তেমন কিছু সমস্যা নেই, হয়তো একা আছেন আর অতিরিক্ত টেনশন করছেন তাই এমন হচ্ছে। পরে তিনি কিছু ওষুধ (INDEVER 10, REJOY 7.5, RABEPES MUSP 20MG, PEPTOFIT) লিখে দেন। কিন্ত ৩০/৩/২০২০ সারাদিন গায়ে জ্বর থাকে আমার। তাই ৩১/৩/২০২০ তারিখ আমি অনলাইন থেকে এক ডাক্তারের নাম্বার নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করি।তিনি আমাকে INDEVER 10 আর PEPTOFIT এর পরিবর্তে NAPA 500 MG আর MONAS 10 খেতে বলে।

এই ওষুধগুলো খাওয়ার পর তেমন আর শ্বাসকষ্ট অনুভব না করলেও জ্বর থাকে গায়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে গা খুব গরম থাকতো। তারপর দুপুরের দিকে থাকতো। মানে জ্বর আসতো আবার চলে যেত। সেইজন্য আমি ১/৪/২০২০ আমার মামার বন্ধু স্বনামধন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করি।

তিনি আমাকে দেখে আমার জ্বর মাপেন। ৯৮ এমন কিছু ছিলো তখন তাপমাত্রা। তো তিনি ২ টা ওষুধ দেন আমাকে।ওষুধ ২ তা খেয়ে ২/৪/২০২০ তারিখ খুব ভালো ছিলাম কিন্তু ৩/৪/২০২০ তারিখ বিকাল থেকে আবার জ্বর আসে। আমি আবার ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করি এবং ৪/৪/২০২০ তারিখ গিয়ে আবার ওষুধ নিয়ে আসি। যদিও ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাস আমাকে আলোপ্যাথি থেতে বারণ করেন কিন্তু ৬/০৪/২০২০ তারিখ আবার হালকা শ্বাসকষ্ট অনুভব করাই আমি পর পর তিন দিন MONAS 10 খাই। ১০/৪/২০২০ তারিখ পর্যন্ত জ্বর তেমন না থাকলেও ১১/৪/২০২০ তারিখ থেকে আবার জ্বর আসে আর যাই সাথে এবার গলা খুশখুশ করতে থাকে,মনে হয় যেন বুকে কফ জমে আছে। ১২ তারিখও এইভাবেই যায়। ১৩/৪/২০২০ তারিখ সকালে খুব আর দুপুরে খুব জ্বর অনুভব করি।

মনে হয় ১০০ এর উপরে ছিলো। তাই ১৪/৪/২০২০ তারিখ আবারও ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করি তিনি আবার ৪ দিনের ওষুধ দেন।১৫/৪/২০২০ তারিখ জ্বর না থাকলেও ১৬/৪/২০২০ তারিখ গোসল করার গা গরম হয়ে ছিলো,প্রায় ১ ঘন্টা ছিলো। সাথে বিকালের দিকে বুক ভার হয়ে গিয়েছিলো আর হালকা শ্বাসকষ্ট অনুভব করেছি। সেইদিন রাতে জ্বর ছিলো না কিন্তু আজ ১৭/৪/২০২০ তারিখ একইভাবে গোসলের পর গায়ে জ্বর ছিলো সাথে গলার ডান সাইড হালকা ব্যাথা হচ্ছিলো। কিন্ত আল্লাহর রহমতে ১৮/৪/২০২০ তারিখ ও ১৯/৪/২০২ তেমন কিছু অনুভব করিনি।

বুঝতে পারছিলাম যে আল্লাহর রহমতে ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাসের দেওয়া এইবারের ওষুধটা কাজে লেগেছে। তারপরও ২০/৪/২০২০ ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ হয় আবার। তিনি আবারো ২ টা ওষুধ দেন। প্রথমত আল্লাহর অশেষ রহমত আর দ্বিতীয়ত উনার শেষ ২বারের ওষুধে ভালো আছি আজ ২৩/৪/২০২০ পর্যন্ত। এখন তেমন জ্বর অনুভব করিনা, আল্লাহর রহমতে গলা ব্যাথাও নেই। ডাঃ আনোয়ার এইচ বিশ্বাসকে আমি সর্বদায় পাশে পেয়েছি।

তিনি আমার মাঝেমধ্যেই খোঁজখবর নিতেন । কি করতে হবে নির্দেশনা দিতেন। মামা আপনি অনেক ভালো মনের মানুষ। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুক সর্বদায় দোয়া করি।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন