প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ‘বাড়ির কাজ’ যাবে মায়েদের মুঠোফোনে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাড়িতে ছুটিতে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের জন্য দেওয়া হবে ‘বাড়ির কাজ’। শিশুদের মায়েদের মোবাইল ফোনে খুদেবার্তা (এসএমএস) দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ কাজ দেওয়া হবে। শিশুদের পড়াশোনায় নিবিষ্ট রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। বিদ্যালয় খোলার পর এই বাড়ির কাজ বিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে। শিক্ষকরা তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন শিশুদের।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সংসদ টেলিভিশনে পাঠদানের পাশাপাশি মোবাইল ফোনেও শিশুদের হোম ওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। টেলিভিশনের পাঠদান তেমন কার্যকর হয়নি বলে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের অভিমত। টেলিভিশনে দুর্বল পাঠদান, সব শিশুর আয়ত্তের মধ্যে টেলিভিশন ও কেবল সংযোগ না থাকা, একই ক্লাস বারবার পুনঃপ্রচার করাসহ নানা কারণে তা শিশুদের আকর্ষণ করতে পারেনি। এ কারণে এই বিকল্প সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকের সব শিশুর মায়ের ‘মোবাইল ফোন’ আছে কিনা জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘আছে।

প্রাথমিকের সব শিশুকে তাদের মায়ের মোবাইল ফোন নম্বরে উপবৃত্তির অর্থ পাঠানো হয়।’বুধবার এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের মায়েদের মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে হোমওয়ার্ক পাঠানোর একটি কর্মপরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, ‘আশা করি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় নিযুক্ত করার জন্য ইউনিসেফ, প্ল্যান বাংলাদেশ এবং আইসিটি বিভাগের এটুআই আগামী সপ্তাহে এটি চূড়ান্ত করবে।’ সচিব জানান, মোবাইল ফোনে দেয়া বাড়ির কাজ শিশুদের দিয়ে মায়েরা করিয়ে নেবেন। তা স্কুল খোলার পর জমা দিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারাদেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ৩৩ লাখ শিক্ষার্থীর মায়েদের যোগাযোগের নম্বর তাদের সংগ্রহে রয়েছে। তারা ওই নম্বরে মাসিক ১০০ টাকা করে উপবৃত্তি পাঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা বিকল্প ভাবনা করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি ক্রমাগত বাড়াতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নানা বিকল্প ভাবনা রয়েছে শিক্ষা খাতে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের। তবে এসব ভাবনার কোনোটিই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিণত হয়নি।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দেশের করোনা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সিলেবাসগুলো সংক্ষিপ্ত করে আনার চিন্তাভাবনা করছেন।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ দীর্ঘায়িত হলে একাডেমিক ক্ষতি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চলতি শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস সংক্ষেপ করে আনার সিদ্ধান্ত নেব।

’জানা গেছে, বাংলাদেশেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী মে মাসের শেষ দিন অথবা জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে, সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও সিলেবাস এবং পরীক্ষা কমিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে পরীক্ষা কাটছাঁট করব। ছুটিকালীন আমরা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি। কিছু শিক্ষার্থী সুযোগ-সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে আমাদের চলমান শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে হবে।

সুতরাং সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা লাগলে তা করতে হবে।’ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা এখনও সিলেবাস কমানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে।’মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের মতো পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী ক্লাসে আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নীত করার কথা এখনই ভাবছি না। সময়ই আমাদের কাজের পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।’