৫০০ কিমি পায়ে হেঁটে চার শিক্ষার্থী বাড়ির পথে

৫০০ কিমি পায়ে হেঁটে চার শিক্ষার্থী বাড়ির পথে

লকডাউনে বন্ধ পরিবহণ। বাড়ি পৌঁছতে তাই হাঁটাই ভরসা। মাথার উপর গনগনে সূর্য। পায়ের তলায় তপ্ত রাস্তা। পিঠে ব্যাগ নিয়ে পায়ে হেঁটে ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাড়ির পথে ছুটে চলেছেন চার শিক্ষার্থী। উত্তরপ্রদেশের বরেলীর রোহিলাখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তারা।

বরেলী থেকে বারাণসীর দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি। সেই পথ পাড়ি দিতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হেঁটে চলেছেন ওই চার শিক্ষার্থী। তবে সুযোগ পেলে মাঝে মাঝে ট্রাকেও উঠে পড়েছেন তারা।

জানা যায়, বারাণসী থেকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বরেলীর রোহিলাখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিলেন রোহিত পাণ্ডে। লকডাউনের জেরে এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। হাতে জমানো টাকা পয়সাও শেষ। বাড়ি থেকেও আসছে না টাকা পয়সা। তাই বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোহিত ও তার তিন বন্ধু। কিন্তু লকডাউনের মেয়াদ আরও বেড়েছে। গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বিপদ যায় বেড়ে। শেষ পর্যন্ত হেঁটে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন ওরা চার বন্ধু।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টা ধরে কখনও হেঁটে বা কখনও গাড়িতে চড়ে রোহিত ও তার তিন বন্ধু প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। পৌঁছে গিয়েছেন লখনউতে। এখনও পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ।

এদিকে, লকডাউনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে রোহিতের সঙ্গী গোলু মিশ্র বলেন, ‘‘লকডাউনে আমাদের পরিবার কিছু দিনের জন্য খরচের টাকা পাঠিয়েছিল। আমাদের টাকা শেষ হওয়ার পথে। আমাদের কাছে আর কোনও পথ খোলা ছিল না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা দিন আনি দিন খাওয়া ঘরের মানুষ। আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠাতেই অনেক কষ্ট করেছে আমার পরিবার। তারা যত আয় করেন তা থেকে আমার জন্য টাকা পাঠান। এখন তাদের কাছেও আর টাকা পয়সা নেই।’’

রোহিত ও গোলুর আর এক সঙ্গী শুভম সিংহ বলেন, ‘‘এক জন সরকারি অফিসার আমাদের ট্রাকে তুলে দিয়েছিলেন। সেটা আমাদের কিছুটা নিয়ে গিয়ে নামিয়ে দেয়। তার পর ট্রাকটা অন্যপথে চলে যায়। ওই অফিসার আমাদের হাইওয়ে ছাড়তে নিষেধ করেছেন। এই পথেই আবার কোনও গাড়ি পেয়ে যাব।’’ আনন্দবাজার।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন




Do NOT follow this link or you will be banned from the site!