স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে চাইলে ডেনমার্কে

স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে চাইলে ডেনমার্কে

বিশ্বে যে কয়টি শান্তিপূর্ণ দেশ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক অন্যতম। উন্নতমানের শিক্ষাব্যবস্থা, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ, শিক্ষাজীবন শেষে সহজেই পছন্দনীয় পেশায় যোগদান ও নাগরিক সুবিধার কারণে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের শিক্ষার্থীরা পড়ার জন্য এখানে আসতে চায়। আপনিও যদি তাদের মতো পড়ার জন্য ডেনমার্কে যেতে চান, তবে আজকের লেখাটি আপনার জন্য।

কেন পড়বেন ডেনমার্কে?
ডেনমার্কের পড়াশুনার মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। কেননা, বিভিন্ন শাখার খ্যাতিমান শিক্ষকেরা পড়ান এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। পাশাপাশি, এখানকার শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় সব স্তরই অনেকটা গবেষণানির্ভর। আর এ কারণেই সারা বিশ্বের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এর চাহিদাও অনেক বেশি।

এছাড়া, উন্নতমানের শিক্ষার পাশাপাশি পার্ট টাইম কিংবা ফুলটাইম চাকরি করে এখানে থাকা এবং খাবারের টাকার যোগান দেওয়া যায়।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন?
ডেনমার্কের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। নিম্নে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেওয়া হলো।

১. ইউনিভার্সিটি অফ কোপেনহেগেন

২. আরহুস ইউনিভার্সিটি

৩. টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ডেনমার্ক

৪. আলবর্গ ইউনিভার্সিটি

৫. ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ডেনমার্ক

কী কী বিষয় নিয়ে পড়তে পারবেন?
ছয়শোর বেশি বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে ডেনমার্কে। এসব বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি করা যাবে পিএইচডিও। ডেনমার্কে যেসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারবেন সেগুলো হলো- ইলেক্ট্রনিকস এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজিটাল মিডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, এস্ট্রোনমি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনোলজি, এপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজিস, রোবোটিকস, একাউন্টিং এন্ড ফিন্যান্স, ফ্যাশন এন্ড টেক্সটাইলস ডিজাইন, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ইত্যাদি।

কখন করবেন আবেদন?
ডেনমার্কে সেশন একটাই। সাধারণত ইইউ এর বাইরের শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই আবেদন করতে হয়। সাধারণত আবেদন করার শেষ সময় জানুয়ারীর ১৫ তারিখ হয়ে থাকে। আর, একাডেমিক ক্লাশ শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে। তবে, আবেদনের সময়সীমা কোর্স ও লেভেলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই, আপনার পছন্দের কোর্স বাছাই করে ঐ কোর্সের কো–অর্ডিনেটরের সাথে যোগাযোগ করুন। এক্ষেত্রে, ডেনিশ শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

কত খরচ হবে?
ডেনিশ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে টিউশন ফি সাধারণত ৬০০০ ইউরো থেকে ১৬০০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে, এটি নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় ও আপনার পছন্দের বিষয়ের উপর। এজন্য, টিউশন ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
এছাড়া, থাকা খাওয়ার জন্য সবমিলিয়ে ১০০০ ইউরোর মতো খরচ হবে। তবে, এর পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার জীবনযাত্রার মানের উপর।


কোনো শিক্ষাবৃত্তি কি দেওয়া হয়?
ডেনিশ সরকার প্রতিবছর বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। শিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এখানে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে?
১. আইইএলটিএস (IELTS) স্কোর ৫.৫ থেকে ৬.৫

২. একাডেমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০% মার্কস

৩. কমপক্ষে ১ বছর ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা (ব্যাচেলর ডিগ্রিতে অ্যাপ্লাই এর জন্য)

৪. কমপক্ষে ৪ বছর ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা (মাস্টার্স ডিগ্রিতে অ্যাপ্লাই এর জন্য)

তবে, এখানে একটা তথ্য জেনে রাখা দরকার। তা হলো বাংলাদেশের কিছু কিছু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ডেনমার্কে ব্লাক লিস্টেড এবং কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিকে কমপ্লিট ডিগ্রি হিসেবে কাউন্ট হয় না। তাই, এই ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত।

source: HDQWalls

আবেদনের সময় কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?
১. আবেদন ফর্ম

২. পাসপোর্টের স্ক্যান কপি

৩. সকল একাডেমিক সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি

৪. মটিভেশন লেটার

৫. আইইএলটিএস (IELTS) সার্টিফিকেট

৬. রিকোমেন্ডেশন লেটার (যদি চায়)

ভিসা আবেদনের জন্য কী করতে হবে?
বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফিস রিসিভ করলে অথবা টিউশন ফিস এর সফট কপি ব্যাঙ্ক থেকে পাবা মাত্র আপনি ভিসা আবেদনের জন্য প্রস্তুত। এখন আপনাকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনি ২ ভাবে আবেদন করতে পারবেন। একটি অনলাইন ও অন্যটি ঢাকার গুলশানের ডেনিশ দূতাবাসে গিয়ে।

অনলাইনে আবেদন করতে ভিজিট করুন এখানে।

ভিসার জন্য যেসব ডকুমেন্টস লাগবে
১. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া অফার লেটারের সফট কপি

২. ভিসা ফিস

৩. টিউশন ফিসের পেমেন্ট কপি

৪. স্টাডি পার্মিটের পূরণকৃত এপ্লিকেশন ফর্ম (ফ্যামিলি ডিটেলস সহ

৫. পাসপোর্ট

৬. আপনার সব ধরনের একাডেমিক কাগজপত্র

৭. চারটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি

source: Alberg University

বাংলাদেশের ডেনমার্ক দূতাবাসের ঠিকানা
রয়েল ড্যানিশ এ্যাম্বাসী
হাউজ #১, রোড #৫১, গুলশান মডেল টাউন, ঢাকা– ১২১২।
ফোন: ০০৮৮০ (২) ৮৮২ ১৭৯৯
ফ্যাক্স: ০০৮৮০ (২) ৮৮২ ৩৬৫৮
ই-মেইল: [email protected]
ওয়েব: http://bangladesh.um.dk/
খোলা ও বন্ধের সময়: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮.০০ টা থেকে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত খোলা।

ওয়ার্ক পারমিট কীভাবে পাবেন?
ডেনমার্কে পৌছে আপনি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পাবেন। এছাড়া সামারের ছুটিতে (জুন, জুলাই, আগস্ট) ফুল টাইম কাজ করতে পারবেন। তবে জেনে রাখা ভালো, ডেনমার্কের পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় আপনি কাজ করে টিউশন ফি সম্পূর্ণ জোগাড় করতে পারবেন না।

পার্মানেন্ট হবেন কীভাবে?
ডেনমার্কে স্থায়ী হতে হলে আপনাকে একটানা আটবছর এখানে থাকতে হবে। পাশাপাশি, শেষের ৩.৫ বছর ফুল টাইম কাজ করতে হবে। তবেই আপনি স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এই হলো ডেনমার্কে পড়তে যাওয়ার বিস্তারিত তথ্য। তবে আর দেরি কেন? বসে না থেকে শুরু করুন আপনার পছন্দের দেশের পদযাত্রার সূচনা।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন




Do NOT follow this link or you will be banned from the site!