শাবানা কেবল অ’ভিনয়ই ছাড়েননি, রীতিমত ‘তওবা’ করেছিলেন অ’ভিনয় না করার

শাবানা কেবল অ’ভিনয়ই ছাড়েননি, রীতিমত ‘তওবা’ করেছিলেন অ’ভিনয় না করার

সকল চলচ্চিত্র কলাকুশলী, ভক্তদের মনে চা’পা কৌতূহল শাবানা চলচ্চিত্র জগৎ ছে’ড়েদিলেন কেন?

ফ্লপ ছবি হচ্ছিল? দর্শক নিচ্ছিল না তাকে? জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ছিল? কৌতূহল আর জিজ্ঞাসার কোন উত্তরই পায়নি কেউ।

নাম, যশ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি এক জীবনে যা কিছু অর্জন ক’রেছেন তিনি ও তার পরিবার,

তার সবটুকুই অ’ভিনয় আর চলচ্চিত্রের কারণে। তবে হ’ঠাৎ কেন তিনি নিজেকে এমন আড়াল কর ফেললেন চলচ্চিত্র থেকে।

তার পারিবারিকভাবে ঘ’নি’ষ্ঠ সুত্র থেকে জা’না যায়, তিনি কেবল অ’ভিনয়ই ছাড়েননি, রীতিমত ‘তওবা’ ক’রেছেন।

শাবানা ১৯৯৭ সালে অ’ভিনয় ছে’ড়েছেন। শোনা যায়, সেই সময় হ’ঠাৎ তার আ’মেরিকা প্রবাসী মে’য়েকে কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

তখন তিনি মনে মনে মানত করেন, মে’য়েকে যদি ফি’রে পান, তাহলে জীবনে আর কখনও অ’ভিনয় করবেন না,

এই জগৎ ছে’ড়ে দিয়ে ধ’র্ম চর্চায় মন দিবেন। মে’য়েকে ফি’রে পেয়ে তিনি অ’ভিনয়,

চলচ্চিত্র এবং দেশ-তিনই ছাড়েন। স্থা’য়ীভাবে বসবাস শুরু করেন আ’মেরিকায়।

যে সন্তানদের জন্য শাবানা অ’ভিনয়জীবন ছাড়লেন তারা এখন প’রিণত বয়সের অধিকারী। পাট চুকিয়েছেন পড়াশোনার।

বড় মে’য়ে সুমী ইকবাল এমবিএ ক’রেছেন। বিয়ে করে এখন সে পুরোদস্তুর গৃহিণী।

ছোট মে’য়ে ঊর্মি সাদিক হার্ভা’র্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ক’রেছেন। ছে’লে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে চাকরি করছেন।

২০ বছর অ’ভিনয় থেকে দূ’রে আছেন শাবানা। কিন্তু তাতে কি। আজও রাস্তায় বের হলে দেখে ফেললেই সামনে আসেন।

কেউবা ছুঁয়ে দেখেন। কেউ আবেগে জড়িয়ে ধ’রেন। এখন আবার কেউ কেউ নাকি সেলফি তোলার আবদারও করেন।

সাংবাদিকদের স’ঙ্গে কথা বলার সময় পোশাকের প্রসঙ্গ টেনে শাবানা বলেন, ‘আমি পোশাকের ব্যাপারে খুব সচে’তন ছিলাম। একবার “বধূ বিদা’য়” ছবিতে পরিচালক প্রথমে

আমাকে গল্পটা শোনালেন। এরপর গ্রামের মে’য়ের চরিত্রে অ’ভিনয় করার জন্য বললেন। পরিচালক জা’নান, এটা এমন একটি চরিত্র গ্রামের মে’য়ে খালি গাঁয়ে শুধু

একটা শাড়ি পরে অ’ভিনয় ক’রতে হবে। তখন আমি তাকে না করে দিয়েছিলাম। তখন পরিচালক আমায় শহরের মে’য়ের চরিত্র দিয়েছিলেন।’

অ’ভিনয় প্রস’ঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবতাম। কোথাও শু’টিংয়ে গেলে ভালো’ভাবে পর্যবেক্ষণ করতাম।

পরিচালক ও নায়ক নিয়ে অ’তটা ভাবতাম না। আমি চাইতাম ছবিতে আমা’র চরিত্রটা যেন ভালো হোক।’

উল্লেখ্য, শাবানার পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রত্মা। তিন যুগের অ’ভিনয় ক্যারিয়ারে শাবানা অ’ভিনয় ক’রেছেন প্রায় ২৯৯টি ছবিতে।

নাদিম, রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, জসীম, সোহেল রানার স’ঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি।

শাবানা অ’ভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর তালিকায় আছে- ‘চকোরী’, ‘ভাত দে’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘অবুঝ মন’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দোস্ত দুশ’মন’, ‘সত্যের মৃ’ত্যু নেই’, ‘রাঙা ভাবী’,

‘বাংলার নায়ক’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘বিরো’ধ’, ‘আনাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘জীবনসাথী’, ‘মাটির ঘর’, ‘লু’টেরা’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কেউ কারো নয়’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘স্বামী কেন

আ’সা’মি’, ‘দুঃসাহস’, ‘পুত্রবধূ’, ‘আ’ক্রো’শ’ ও ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ ইত্যাদি। আর অ’ভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শাবানা পেয়েছেন ১০বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

১৯৯৭ সালে অজা’না কারণে চলচ্চিত্র থেকে বিদা’য় নেন গুণী এই অ’ভিনেত্রী।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন




Do NOT follow this link or you will be banned from the site!