ক্রিকেট ব্যাটে ৫ শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থান

ক্রিকেট ব্যাটে ৫ শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থান

শীতকালে বাংলাদেশের অপেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য ব্যাট তৈরির অন্যতম কেন্দ্র পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা। জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে বিন্না, ডুবি ও একতা গ্রামে চলছে সারাদেশে ক্রিকেট ব্যাট সরবরাহের রমরমা ব্যবসা। এ গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবারের ৬-৭ হাজার সদস্য এ সময় রীতিমত ব্যস্ত থাকেন ক্রিকেটের ব্যাট ও স্ট্যাম্প তৈরির কাজে। প্রতিটি স্ট্যাম্প ২০-৩০ টাকা আর ব্যাট ২০০-২৫০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করেন তারা।

জানা যায়, ব্যাট তৈরির জন্য প্রথম কাজ উপযুক্ত কাঠ সংগ্রহ করে কেটেকুটে প্রস্তুত করা। এরপর চাহিদা অনুযায়ী কাঠগুলো কেটে-চেঁছে সেগুলো থেকে ব্যাট তৈরির কাজ চলে। তৈরি ব্যাটে রং লাগানোর কাজ চলে দিনভর। রং ও বার্নিশ করার পর ব্যাটের হাতলে পেচোনো হয় কালো ফিতার মত জিনিস। যাতে শক্তভাবে ব্যাটের হাতল ধরে রাখা যায়। ব্যাটগুলোকে নজরকাড়া চেহারা দিতে লাগানো হয় বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের ঝকমকে নকল স্টিকার। এ কাজে নারীরাও অংশ নেন সমানতালে।
ব্যাট তৈরির কারিগররা জানান, মূলত এসব ব্যাট পেশাদার খেলায় ব্যবহার হয় না। এগুলো সারাদেশের ক্রিকেটভক্তদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। তাই চেহারাটা চটকদার করার জন্য সবরকম চেষ্টা থাকে। ব্যাট তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আর শেষ পর্যায়ে ব্যাটের গায়ে লাগাতে হয় হালকা প্লাস্টিকের প্রলেপ।
কারিগর মহিব্বুল্লাহ জানান, এ গ্রামে একেকটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে ১০০টির মতো ব্যাট তৈরি করেন। মাসে ৩-৪ হাজার ব্যাট বানায় একেকটি পরিবার। তবে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা পেলে এ শিল্পকে আরও সামনে নিয়ে যেতে পারবেন তারা।জেলা প্রশাসক আবু আলি মো. সাজ্জাদ বলেন, ‘নেছারাবাদ উপজেলার ব্যাট ও স্ট্যাম্প তৈরির গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছি। তাদের সার্বিক সমস্যা চিহ্নিত করে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবো।’

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন




Do NOT follow this link or you will be banned from the site!